গত ৫ ম্যাচে মোট রান ১৩১। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৬ রান। একবার নটআউট। ২ বার আউট হন শূন্য রানে। ব্যাটিং গড় মাত্র ১৪ দশমিক ৫৫। হয়তো অনেকেই ভাবছেন এটা কোনো বোলারের ব্যাটিং গড়। কিন্তু ভুল ভাবছেন! এটা কোনো বোলারের ব্যাটিং গড় নয়। বাংলাদেশের ওপেনার ইমরুল কায়েসের ব্যাটিং গড়। ২০১৭ সালে তিনি এখন পর্যন্ত ৫টি টেস্টে ১৪ দশমিক ৫৫ গড়ে ১৩১ রান করেছেন। ভাবা যায়! একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যানের এমন গড়।

এরপরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ম্যানেজম্যান্ট বারবার তার ওপর আস্থা রাখছেন। আর তিনি বার বার তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। কেউ কেউ তার নামের আগে যোগ করেন ‘স্যার’ উপাধি।
ব্যাট হাতে একের পর এক ব্যর্থ ইমরুল কায়েসের ফিল্ডিংয়েও যাচ্ছেতাই অবস্থা। একের পর এক ক্যাচ ছাড়েন। তার ছেড়ে দেয়া ক্যাচে জীবন পেয়ে অনেকেই সেঞ্চুরি হাঁকান। কিন্তু তিনি বার বার জীবন পেলেও, তা কাজে লাগাতে পারেন না।
এই তো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম টেস্টে সেই আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ইমরুল কায়েস! শুধু ব্যাটিংয়ে না, ফিল্ডিংয়েও ব্যর্থ ইমরুল। আবার সতীর্থকে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষেত্রেও ভুল সাজেশন দেন! যেমন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হক যখন লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন, তখন ইমরুল কায়েস ছিলেন নন-স্ট্রাইক প্রান্তে।
মুমিনুল হক রিভিউয়ের বিষয়ে ইমরুলকে জিজ্ঞাসাও করেছিলেন। কিন্তু তিনি ভুল সাজেশন দেন। যাতে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্ট্যাম্প মিস করত। এ নিয়ে ইমরুলকে সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা। বার বার তার দলে অন্তর্ভুক্তিতে বিস্ময়ও প্রকাশ করেন অনেকেই।
প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের কথাই বলা যাক। চা বিরতির আগে যখন ইমরুল কায়েস আউট হলেন তখন জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর কথোপকথন তুলে ধরা যাক। সেখানেই একজন বিস্ময় প্রকাশ করেন। বলেন, এমন ব্যাটিং গড় নিয়েও কীভাবে ইমরুল কায়েস দলে বার বার সুযোগ পান।
ওয়ারি নামে একজন লেখেন, ইমরুলকে বাদ দেয়া প্রয়োজন। এমন একটা বাজে ব্যাটিং গড় নিয়ে কীভাবে সে দলে সুযোগ পায় বিশ্বাস করতে পারছি না।
রাফিন নামে একজন লেখেন, যথেষ্ট হয়েছে। তাকে আবারও ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরিয়ে নেয়া দরকার। পরের ম্যাচে আশা করি তার বদলে সৌম্য সরকার খেলবে। এই বছরে সৌম্যর ব্যাটিং গড় ৩৯। দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়ায় তাকে দেখার অপেক্ষায় রইলাম। তাছাড়া এনামুল হক বিজয়কে দলে ফেরাতে পারে। জাতীয় লিগে সে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে।
শেখ নামের একজন বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা অনেককেই দলে রাখার বিষয়ে কথা বলছেন। আমিও তাদের সঙ্গে একমত। তবে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের বোলারদের খেলা আর দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের খেলা এক কথা নয়। ইমরুলের পরিবর্তে সৌম্যকে নেয়া যেতে পারে। সে বিদেশে ভালো খেলে। তাছাড়া শাহরিয়ার নাফিস, আনামুল হক বিজয় ও আশরাফুলকে সুযোগ দেয়া যেতে পারে। আর মুশফিকুর রহিমকে বিশ্রাম দেয়া যেতে পারে।













