ফুসফুসের প্রতি আমরা নজর দেই তখনই যখন এটি আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত ফুসফুসের খুব একটা যত্ন নেই না বললেই চলে। অথচ ফুসফুসই আমাদেরকে কোনো রোগ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রথম লড়াইটা করে।
আমরা জানি যে, বাইরের বাতাস আমাদের ফুসফুসের ভালো থাকা বা খারাপ থাকার পেছনে প্রধান ভুমিকা পালন করে। তবে ফুসফুসের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক উপাদান হলো টার এবং নিকোটিন। ধুমপান বা অন্যদের ধুমপানের ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া টার আর নিকোটিন ফুসফুসের ক্ষতির কারণ।
এসব উপাদান ফুসফুসে জমা হয়ে বিষক্রিয়া করে ফুসফুসকে ধ্বংস করতে থাকে। নিকোটিন দেহে প্রবেশ করা মাত্রই রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে সংকুচিত করতে থাকে।
টার ফুসফুসের বায়ুথলিগুলোতে জমা হয়ে সেগুলোর বাতাস বিশুদ্ধকরনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে।
ফুসফুসের এসব বিষাক্ত উপাদানকে পরিষ্কার করতে প্রাচীন একটি কার্যকর প্রাকৃতিক মহৌষধি আছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক।
মহৌষধিটির উপাদান:
১ লিটার পানি
৪০০ গ্রাম পেঁয়াজ
২ চামচ আদা এবং হলুদ
৪০০ গ্রাম মধু
বানানোর পদ্ধতি:
পানির সঙ্গে বাটা পেঁয়াজ টুকু মিশিয়ে হালকা আগুনে সেদ্ধ করুন। এর সঙ্গে দুই চামচ বাটা আদা ও হলুদ গুড়ো মেশান।
১০ মিনিট ধরে সেদ্ধ করার পর তাতে মধুটুকু মিশিয়ে দিন। এরপর ভালোভাবে নেড়ে নেড়ে মেশান। মিশ্রণটি আরো ভারী করতে চাইলে আরো বেশি সময় ধরে আগুনে সেদ্ধ করুন।
এই মিশ্রণটি থেকে প্রতিদিন সকালে দুই চামচ আর রাতে ঘুমানোর আগে দুই চামচ করে খান।
এই মিশ্রণটি আপনার ফুসফুস থেকে সবধরনের বিষাক্ত উপাদান পরিষ্কার করতে সক্ষম। প্রাচীন কাল থেকেই ভারত উপমহাদেশিয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই মহৌষধিটি ব্যবহৃত আসছে ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে।
এই মিশ্রণটি সেবন শুরু করার পর প্রথমদিকে হালকা কফ দেখা দিতে পারে। যা খুবই স্বাভাবিক। ওই কফের সাথে ফুসফুসে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলো বের হয়ে আসতে শুরু করবে।
আপনি যতদিন ইচ্ছা এই ওষুধটি সেবন করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, আদা রক্তকে পাতলা করে। ফলে আপনার যদি এই সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে আগে পরামর্শ করে নিবেন।