বিশ্বরেকর্ড করা বাংলাদেশী কোটা পদ্ধতি

0
712

পৃথিবীর কোন দেশে কোটা-পদ্ধতি যুগ যুগ ধরে চলে না। একটি পিছিয়ে পড়া জাতিগোষ্ঠীকে চাকরিতে সুযোগ দিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোটা-পদ্ধতি চালু থাকে। যখন সে জাতিগোষ্ঠী অগ্রগামী জাতিতে পরিনত হয়, তখন কোটা আর থাকে না। যেমনঃ ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে কোটা-পদ্ধতি চালু আছে। যে সকল উপজাতি পিছিয়ে আছে, তাদের জন্য কোটা রয়েছে। কিন্তু অন্য রাজ্যে সেই উপজাতি যদি পিছিয়ে না থাকে, তবে সেখানে তাদের জন্য কোন কোটা থাকে না। আমেরিকাতে বাংলাদেশিদের জন্য ডিভি ভিসা নামক কোটা চালু ছিল, কিন্তু বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী বেড়ে যাওয়ার পর ডিভি তুলে দেয় আমেরিকা সরকার।
কোটা পদ্ধতি
কিন্তু আমাদের দেশে চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিটি কোটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ফিক্সড হয়ে গেছে। বিসিএসে মেয়েরা মেধা দিয়ে সব পোস্ট দখল করার পরেও তাদের জন্য কোটা রেখে তাদের কি অপমান করা হচ্ছে না! বিসিএস কিংবা অন্য অনেক পেশায় এখন নারীরাই পুরুষদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। অথচ নারীদের জন্য ১০% কোটা রেখে তাদের মেধাকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। কারন কে কোটা সুবিধাভোগী এবং কে নয়; বুঝবার সুযোগ নেই। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা এইদেশে অসংখ্য সুবিধাভোগী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত। প্রতিটি সরকার বার বার গেজেট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বাড়িয়েছে এবংকি মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাও পরিবর্তন করেছে। কোটি মেধাবী যুবকের রাত জাগা পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিচ্ছে কোটা-পদ্ধতি। পৃথিবীর সব দেশেই মুক্তিযোদ্ধা আছে, কিন্তু কোটা কোথাও নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরন করার এবং সম্মান করার অনেক উপায় আছে। তাই বলে তাদের নাতিপুতিদের জন্য আকাশচুম্বী কোটা সংরক্ষন করে, বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানকে রাজনীতির একটি অংশ বানাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাসির পাত্র বানাচ্ছে। চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নিয়ামক ছিল। অথচ সেই মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরীরা যখন ৩০% চাকরি দখল করে, তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং উদ্দেশ্য নিয়েই তরুন সমাজ দ্বিধান্বিত হয়। যে দেশে জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের ছেলে চায়ের দোকানে পানি টানে, সেই দেশে শুধু কোটা সুবিধা পেতে হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি কি স্বাধীনতার সাথে তামেশা নয়…?? পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম জেলার জন্য কোটা রাখা যায়। তাই বলে ঢাকা এবং ফেনীর মত এগিয়ে থাকা জেলার সংরক্ষিত কোটা অনিয়ম এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে।

সর্বোপরি নারীরা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানগন এবং উপজাতিরা বাংলাদেশের ১৭কোটি মানুষের চেয়ে এতই পিছিয়ে পড়ে নেই যে, বছরের পর বছর তাদের জন্য বছরের পর বছর কোটা রেখে দিতে হবে। শুধু রেখে দিচ্ছেই না, প্রতিটি সরকার কোটা সুবিধা বাড়িয়েই চলেছে। সুপ্রিমকোর্ট চুপ, সুশীল সমাজ চুপ এবংকি সাংবাদিক সমাজও চুপ। অথচ পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের জন্য এখন সবচেয়ে কোটা প্রয়োজন।

নাজিম সরকার