রাজধানীর আবদুল গনি রোডে পুলিশের ক্রাইম কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারে এই সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ উদ্বোধনের পর দুপুরের পর সেবা দিতে দেখা যায় কর্মীদের।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ময়মনসিংহের পুরোহিতপাড়া থেকে একটি কল আসে ‘৯৯৯’ নম্বরে। সেখান থেকে এক ব্যক্তি জানালেন, দুই কক্ষের একটি বাসায় আগুন ধরেছে, দ্রুত ফায়ার সার্ভিস পাঠান। তখনই ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বিষয়টি জানিয়ে দেন ৯৯৯ কল সেন্টারের সংশ্নিষ্ট কর্মী। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আগুনে কিছু আসবাবপত্র পুড়েছে, তবে কেউ হতাহত হয়নি।
পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৯৯৯ নম্বরে কল করে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স সম্পর্কিত জরুরি সেবা পাওয়া যাবে। এখানে কল করার জন্য কোনো টাকা খরচ হবে না, এমনকি মোবাইল ফোনে টাকা না থাকলেও কল করা যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেবাটি পরিচালিত হচ্ছে।
জাতীয় জরুরি সেবার উদ্বোধনের পর সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবসে দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘৯৯৯’। এই নম্বরটি শুধু জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য। তথ্য জানার জন্য আরেকটি নম্বর অচিরেই চালু করা হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। ৯৯৯ কার্যক্রম তথ্য প্রযুক্তি খাতে আরেকটি মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।’
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত অনেক দেশে একটি ‘শর্ট কোডে’ কল করে জরুরি সেবা পাওয়ার এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এবার বাংলাদেশও সেই পর্যায়ে উন্নীত হলো। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে আরও একটি ধাপ এগিয়ে গেল সরকার। পর্যায়ক্রমে এই নম্বরের মাধ্যমে সকল জরুরি সেবা দেওয়া হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, ‘বিপদের সময় মানুষ পুলিশকে ফোন করে। কিন্তু সারাদেশে পুলিশের এত ইউনিটের নম্বর মনে রাখা সম্ভব নয়। তাই আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একটি সংক্ষিপ্ত নম্বরে পুলিশি সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। ৯৯৯ নম্বরে একসঙ্গে ১২০টি পর্যন্ত কল গ্রহণের সক্ষমতা রয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সেবা পুরোদমেই দেওয়া যাবে। তবে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আপাতত সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সাড়ে চার হাজার অ্যাম্বুলেন্স তালিকভুক্ত করা হয়েছে, যারা এই সেবা দেবে। ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও কল করে এ সেবা পাওয়া যাবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সম্মানিত অতিথি হিসেবে এ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম ও কামরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ তত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বিনয়কৃষ্ণ বালা। অনুষ্ঠানে এই সেবা কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উদ্বোধনের পর দুপুরে আবদুল গনি রোডে ৯৯৯ কল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যরা ফোনে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যস্ত।














