। শাহরিয়ার জাবেদ নাঈম, বিশেষ প্রতিনিধি:
“কবে আসবে এসএসসি-এইচএসসি বিকল্প মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত?”, কয়েকদিন ধরেই পরীক্ষার্থীদের মাথায় যেনো বারবার আসছে এই প্রশ্ন। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে প্রায় দেড় বছর ধরে। এ অবস্থায় আগামী ৩০ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে করোনার ঊর্ধ্বগতিতে সোমবার (২৮ জুন) থেকে আসছে কঠোর লকডাউন। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়ছে। ৫ শতাংশের নিচে না আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে না। ৩০ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধান্ত জানাবেন। এর জন্য কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।’
“৫ শতাংশের নিচে না আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে না। ৩০ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। তবে পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধান্ত জানাবেন। এর জন্য কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।”
একদিকে চলতি বছরের (২০২১ সালের) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পরীক্ষার বিকল্প পথও অনুসন্ধান করছেন সংশ্নিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। বলা হয়েছিলো মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধই থাকবে। তাই জুলাইয়ের মধ্যে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া সম্ভব না হলে এ বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের সব পরীক্ষা বাতিল করা হবে। তবে তারা এটিও জানিয়েছিলেন কোনোভাবেই অটোপাস দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সিলেবাসের ওপরে দেওয়া অ্যাসাইনমেন্ট, বাড়ির কাজ ও ব্যবহারিক কাজের ভিত্তিতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হতে পারে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে এই দুই পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত। তবে কি হতে যাচ্ছে আসলে তা সিদ্ধান্তের আগে বলা সম্ভব নয়।
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভালো না হলে এ দুটি পরীক্ষা বাতিল করে সরকারের বিকল্প চিন্তার বিষয়ে এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীও ইঙ্গিত দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বাড়িতে স্বাভাবিক পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পরীক্ষা নিতে পারব কি পারব না, না নিলে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে, সে সবকিছু নিয়েই আমাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে। অনলাইন ও অ্যাসাইনমেন্ট যা হচ্ছে, তার বাইরে যেটুকু সম্ভব, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাড়িতে চালিয়ে যাক। তাদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যাতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। করোনাভাইরাসের কারণে তো সারাবিশ্বেই শিক্ষার ক্ষতি হচ্ছে।’
অন্যদিকে মঙ্গলবার ৪৩ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি প্রদান সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে আছে। আমরা এটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছি। আমরা খুব শিগগিরই সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেবো। আর বেশি দিন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হবে না। ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষা হয়েছিল, সেটার ফলাফল আমরা প্রকাশ করেছি। এইচএসসি বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করেছি। এবার কী হবে সেটাও আমরা শিগগিরই জানিয়ে দেব।’
