ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করলেন পিতা

0
ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করলেন পিতা

শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ায় জমি থেকে শিশু সাইমনের যে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয় তার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জানা যায়, ৯ বছরের ছেলেকে গলাকেটে হত্যার পর মরদেহ জমিতে ফেলে যান তার নিজেরই বাবা বাদল মিয়া (৩০)।

রবিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদতের আদালতে এ নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বাদল। সে সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ার বাসিন্দা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজি মাসুদ ইবনে আনোয়ার জানান, হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুযায়ী নিহত শিশুর বাবা বাদল মিয়াকে পুলিশের প্রথম থেকেই সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে শনিবার রাতে তাকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথমে সে নানা টালবাহানা করলেও পরে হত্যার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় বাদলের স্ত্রী মিলি বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।

বাদলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে কাজি মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১২ সালে বাদলের আর মিলির বিয়ে হয়। তাদের সাইমন (৯), আইমান (৬) ও নাইম (৪) নামের তিন সন্তান রয়েছে। তবে বাদল দাবি করেন সাইমন তার সন্তান নয়, শুধু আইমান ও নাঈম তার সন্তান। এছাড়া আইমান ও নাঈমকে নাকি সাইমন প্রায় সময়ই মারধর করতো। এ নিয়ে বাদল মিয়ার ভেতরে সায়মনের প্রতি ক্ষোভ বিরাজ করছিল।’

পুলিশ পরিদর্শক আরো জানান, সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে সাইমন আইমান ও নাঈমকে অনেক মারধর করে। এরপরই বাদল মিয়া সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি তার স্ত্রীর ‘জারজ’ সন্তান সাইমনকে মেরে ফেলবেন। তাই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার সকালে বাদল মিয়া সাইমনকে ঘাস কাটার কথা বলে জমিতে নিয়ে গিয়ে কাঁচি দিয়ে তাঁর গলাকেটে হত্যা করেন।