তারেক রহমানের লিগ্যাল নোটিশের জবাব দেবেন প্রতিমন্ত্রী

0
পাসপোর্ট

স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েসহ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চার বছর আগেই ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাঁদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, এ থেকে বোঝা যায় তাঁদের বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন নেই। সোমবার রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এই খবর জানিয়েছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) কী পাসপোর্ট নবায়ন করতে চেয়েছেন? বা এর মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছেন? তিনি তো চাইলে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁদের পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে পারতেন। তবে সেটি না করে তিনি পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের হোম অফিসে জমা দিয়েছেন। এর অর্থ কী? একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে আমি মনে করি, এটা জাতীয়তাকে বা নাগরিকত্বকে অস্বীকার করা।’

ফৌজদারি আইনে সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিতে মজার হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি আইনগতভাবেই বিষয়টির মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, কারণ তাঁর কাছে তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে সব ধরনের তথ্য প্রমাণ আছে। শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটা জেনে ভালো লাগছে যে বিএনপির আবারো বাংলাদেশের আইনের প্রতি বিশ্বাস ফিরে এসেছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রিটিশ হোম অফিস ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠিয়ে দেয়। ফলে এখন বাংলাদেশ ভ্রমণের আইনী কোনো কাগজপত্র তাঁদের কাছে নেই।

এর আগে লন্ডনের স্থানীয় সময় রোববার যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার আলম জানান, চার বছর আগেই পাসপোর্ট হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে তারেক রহমানের পক্ষে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রতিমন্ত্রী, দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশে প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’—এ খবর ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ বক্তব্য রাখা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য। দশ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাদের সবার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।’