বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে এবার কোরবানির গরু-ছাগল বিক্রি করছেন কিছুসংখ্যক বিক্রেতা। এতে অনেক ক্রেতার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অনেকে ব্যস্ততা ও নানা ঝামেলার কারণে হাটে না গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে গরু বা ছাগল কিনে নিচ্ছেন।

এবার বন্যার কারণে এখানে কোরবানির পশুর দাম তুলনামূলকভাবে কম। ব্যবসায়ীরা হাটে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেকে ধারণা করছেন, ঈদের আগে যে কয়েক দিন বাকি আছে, তাতে তাঁদের পশুগুলো বিক্রি করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এ জন্য তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে কোরবানির পশু বিক্রির চেষ্টা করছেন।
শুক্রবার উপজেলার কুড়াহার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তিনজন মানুষ কয়েকটি গরু নিয়ে হেঁটে চলেছেন। এলাকার উৎসুক মানুষ তাঁদের চলার পথে গরুগুলোর দাম করছেন। সেখানে তোরাব আলী নামের এক ব্যক্তি ৪২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে একটি গরু কিনে নিলেন। তারপর গরুর মালিকেরা রওনা দিলেন অন্য গ্রামের উদ্দেশে।
অই উপজেলার কালিতলা মাঝিহট্ট সড়কে দেখা গেল, এক ছাগল ব্যবসায়ী পাঁচটি ছাগল নিয়ে পাশের গ্রামের দিকে হেঁটে চলেছেন। বেশ কয়েক ব্যক্তিও চলছেন তাঁর সঙ্গে। চলতি পথেই দামদর করছেন।
গরু ব্যবসায়ী ছামসুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও মোজাম মিয়া বলেন, প্রতিবছর তাঁরা কোরবানির পশু বিক্রির ব্যবসা করেন। এ বছরও তাঁরা ৩৫টি গরু কয়েক মাস ধরে পালন করেছেন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দেওয়ায় কোরবানির পশুর দাম অনেক কমে গেছে। পশুগুলো বিক্রি হবে কি না, তা নিয়েও তাঁরা চিন্তিত। তাই ফেরি করে পশু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রফিকুল হক নামের এক ছাগল বিক্রেতা বলেন, গ্রামের সড়কে তিনি প্রতিদিন ১০টি করে ছাগল নিয়ে হাঁটা শুরু করেন। প্রতিদিন চার থেকে ছয়টি ছাগল বিক্রি করছেন। ছাগল নিয়ে হাঁটার সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
দামগাড়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া (৪৫) বলেন, ‘আমরা তিন ভাই মিলে একটি গরু ও প্রত্যেকে একটি করে ছাগল কোরবানি দিচ্ছি। গরু হাট থেকে কিনলেও ছাগল গ্রামে বসেই কিনেছি।’
ছাতুয়া গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, হাটে গরু বা ছাগল কিনলে ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ ছাড়া পকেটমারের ভয়, ভিড়, কাদায় ভোগান্তি আর হাসিলের বাড়তি টাকার কারণে তিনি গ্রামে বসে ফেরিওয়ালাদের কাছে কোরবানির পশু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।













