বৌ, শ্বশুড় ও শ্বাশুড়িকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, অবশেষে গ্রেফতার

0

শনিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরে দাম্পত্য কলহের জেরে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টা চালানো সুজন দাশ (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির আত্মহত্যার প্রচেষ্টাও কৌশলে রুখে দিয়েছে পুলিশ।

নগরের ডবলমুরিং থানার পূর্ব গোসাইলডাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করার সময়ে তার কাছ থেকে দুটি চাপাতিও জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি থানার আসকরদিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা সুজনের সঙ্গে ১৩ বছর আগে বিয়ে হয় সুতৃষ্ণা দাশের। তাদের ঘরে দুটি সন্তান থাকলেও সম্প্রতি সুজন আরেক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন। পরে তিনি স্ত্রীর কাছে ধরা পড়লে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই বাগবিতণ্ডা হতো। তিন দিন আগে এ বিষয়টি নিয়ে তুমুল ঝগড়া হলে সুতৃষ্ণা পূর্ব গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় বাবার বাড়ি চলে যান।

এদিকে সুজন তার স্ত্রীকে বারবার বাড়ি ফিরে আসতে বললেও সুতৃষ্ণা রাজি না হওয়ায় একপ্রকার ক্ষিপ্ত হয়েই সুজন তার স্ত্রী ও শ্বশুড়-শ্বাশুড়িকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন দুটি চাপাতি কিনে শনিবার রাতে সুজন শ্বশুরবাড়ি যেতেই আগে তাকে দেখে ফেলেন স্ত্রী। তিনি তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে সুজন প্রথমে দরজা ধাক্কানো শুরু করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় তিনি এলোপাতাড়ি দরজায় কোপাতে থাকেন।

এতে দরজা কিছুটা নড়বড়ে হয়ে গেলে ভেতরে আসবাবপত্র দিয়ে দরজা আটকে রাখেন সুতৃষ্ণা ও তার পরিবার। সে সময়ে সুতৃষ্ণা পুলিশের কাছে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাইলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশকে দেখে সুজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে নিজের গলায় চাপাতি ধরে বসেন। পুলিশ চলে না গেলে নিজেকে ‘শেষ’ করে দেবেন বলেও হুমকি দেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বিভিন্ন কৌশলে সুজনকে নিবৃত্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেফতার সুজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দিয়ে রবিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।