বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আজ বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার সমনের জবাব দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু জবাব দিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একই আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পণ না করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান বিচারক।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ এবং বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে ‘অপমানিত’ করার অভিযোগে ওই মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। মামলায় জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে হুমকি ও অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।
আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেোয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান (তদন্ত) প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন উল্লেখ করেন তিনি। তবে মামলার অপর আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
এ ছাড়া ২২ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।














