রোববার ঈদযাত্রার প্রথমদিনটি মোটামুটি স্বস্তিদায়ক ছিল। যদিও রেললাইনে সমস্যার কারণে কয়েকটি ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় সাময়িক ভোগান্তি হয়। সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় ছিল স্বাভাবিক। সকালের ট্রেনে তেমন ভিড় না থাকলেও দুপুরের পর ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোয় মোটামুটি ভিড় দেখা গেছে।

আজ ভোরে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে রেললাইনে সমস্যা হওয়ায় ঢাকাগামী কয়েকটি ট্রেন দেরি করে কমলাপুর এসেছে। এ কারণে নীলফামারীর নীলসাগর, দিনাজপুরের একতা, জামালপুরের অগ্নিবীণা এবং একটি মেইল ট্রেন দেরি করে ঢাকা ছেড়ে গেছে।
ঈদযাত্রার প্রথম দিন ঢাকা থেকে ৬৩টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৮টি ট্রেন ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী। ট্রেন দেরি করায় দুঃখ প্রকাশও করেছেন তিনি।
সিতাংশু বলেন, ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পার হওয়ার পর স্টাফ রোড গেটে রেললাইন ভেঙে গিয়েছিল। এ কারণে ডাউন ট্রেনগুলো আসতে বিলম্ব হওয়ায় আপ ট্রেনগুলো বিলম্বে ছেড়ে গেছে। দুই লাইনের ট্রেন এক লাইনে চলায় ট্রেনগুলো দেরিতে ছাড়তে হয়েছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সেটা মেরামত হয়ে গেছে। এখন দুই লাইনেই ট্রেন চলছে। আশা করছি আগামীকাল থেকে কোনো ট্রেন বিলম্ব হবে না।
দিনাজপুর এবং জামালপুর হয়ে দেওয়ানগঞ্জ এবং জামালপুর পার্বতীপুর হয়ে থেকে তারাকান্দি পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত হওয়ায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রেন দেরি করায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও বাড়ি যাওয়ার আনন্দে তা ঢাকা পড়ে গেছে বলে জানালেন কয়েকজন যাত্রী। দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার কথা সকাল ১০টায়। দুইঘণ্টা দেরি করে তা দুপুর ১২টায় ছেড়ে যায়।
ট্রেনের যাত্রী নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, আমরা আগেই চলে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি লেট। টানা দুই ঘণ্টা বসে থাকা খুব বিরক্তিকর। তবে এখন বিরক্ত লাগলেও বাড়ি যাওয়ার পর এটা আর থাকবে না।
ঈদের আনন্দের কাছে এ ভোগান্তি তেমন কিছু নয় বলে জানান এই ট্রেনের আরেক যাত্রী আমিনুল হক। ভোগান্তি যতই হোক, শেষে সবাই যখন একসঙ্গে হই, তখন এসব আর মনে থাকে না। বাড়ির সবার সঙ্গে একত্র হওয়া, বাবা-মার সঙ্গে ঈদ করার আকাঙ্ক্ষা সবার থাকে। আমরা জানি যাওয়ার পথে কিছুটা কষ্ট হবে।
দুপুর সোয়া ২টায় নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে স্ত্রী-সন্তানদের তুলে দিতে এসেছিলেন পুলিশ সদস্য ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, ঈদের আগে এবার ছুটি কম। ভিড় এড়াতে তাদের আগে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঈদের বেশি দেরি নেই। বাচ্চাদেরও পরীক্ষা শেষ। তাদের আগেভাগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। বাড়ি গিয়ে মজা করুক। আমি ঈদের আগের দিন যাব।
এবার ঈদের সময় প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে রেলওয়ে। এছাড়া ২৯ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর এবং ঈদের পরে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।













