ময়মনসিংহের জঙ্গি আস্তানায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল!

0

ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকায় আধা-পাকা ওই বাড়িতে বিস্ফোরণে একজন নিহত হওয়ার পর রোববার রাত থেকে ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। ভালুকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু বোমা, গ্রেনেড এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
জঙ্গি

সোমবার সকালে ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ভালুকা পৌঁছানোর পর সেখানে তল্লাশি শুরু করে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) নূরে আলম দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, নিহত জঙ্গির ঘর থেকে তিনটি বড় আকারের শক্তিশালী বোমা, তিনটি ট্রেসার, একটি গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এখন সেগুলো নিস্ক্রিয় করার কাজ চলছে।

এর আগে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সকালে সাংবাদিকদের জানান, নিহতের পরিচয় সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তার নাম আলম প্রামাণিক, বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামে। সে জেএমবির আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য একজন বোমা বিশেষজ্ঞ ছিল। বোমা বানানোর সময়ই বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে।

গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আধা-পাকা ওই বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই বাড়ির অন্য সদস্যরা পালিয়ে যান। পরে পর ঘরের ভেতরে একজনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হবিরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বাচ্চু জানান, বোমা বিস্ফোরণের পর দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান নিহতের স্ত্রী। পরে মসজিদের মাইকে তাদের ধরতে সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে হবিরবাড়ী বাসন্ট্যান্ড এলাকা থেকে ওই তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিনের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, সুতার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে স্ত্রী পারভীন আক্তার ও দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গত ২৪ অগাস্ট ওই বাড়িতে ওঠে ৩৫ বছর বয়সী ওই ‘জঙ্গি’। তখন সে তার নাম বলেছিল আবদুল্লাহ, বাড়ি কুষ্টিয়ায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ময়মনসিংহ দক্ষিণ) নূরে আলম জানান, তিন দিন আগে ওই পরিবার বাসায় উঠলেও স্থানীয়রা তাদের দেখেনি বলে জানিয়েছে। বাড়িওয়ালা আজিম উদ্দিন, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার এবং তাদের দুই ছেলেকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে