গত বৃহষ্পতিবার কোভিডে মৃত্যু হওয়ার কারণে যশোরের মণিরামপুরে এক হিন্দু ব্যক্তির মৃতদেহ সৎকারে বাধা দেওয়া হয়।
পরে মুসলিম স্বেচ্ছাসেবীরা সেই লাশের সৎকার করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলার মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যার নাজমা খানম।
গত ৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের সাতনল গ্রামের প্রফুল্ল সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
প্রফুল্ল সরকারের ছেলে শেখর সরকার জানান পরীক্ষায় তার বাবার করোনাভাইরাস ধরা পড়ায় মৃত্যুর পর বাবার মরদেহ সৎকারের জন্য আত্মীয়-স্বজন অথবা এলাকার কেউ এগিয়ে আসেনি। শেষে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকওয়া ফাউন্ডেশন নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কয়েকজন সদস্য আসেন।
পরবর্তীতে তারা মরদেহ নিয়ে যান মনিরামপুর পৌর এলাকার তাহেরপুর শ্মশানে কিন্তু সেখানেও সৎকারে বাধা দেন শ্মশানের তত্ত্বাবধায়ক শুশীল মণ্ডল ও তার লোকজন।
পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম ও পৌরসভার কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরীর হস্তক্ষেপে অনুমতি মেলে সৎকারের।
শেখর বলেন, “অনুমতি মিললেও সম্প্রদায়ের কেউই সৎকারে এগিয়ে আসেননি। পরে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা নিজেরাই চিতা সাজিয়ে সৎকারকাজ সম্পন্ন করেন।”
তবে সৎকারে বাধা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক তুলসি বসু দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “মূলত আতংকের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে। যার জন্যে আমরা আসলেই দুঃখিত।”
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যার নাজমা খানম বলেন, “তাকওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা মুসলমান হয়েও হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃতদেহ সৎকার করে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”














