রক্তাত্ত হ্রদ যেখানে পাথর হয়ে যায় জীবন্ত সকল প্রাণী

0

হ্রদ বলতে আমরা কি বুঝি? বিশাল কোন জলাধার,থাকবে টলটলে চোখ শীতল করা পানি আর চারপাশে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ…
কিন্তু সব সৌন্দর্যের পিছনে ই থাকতে পারে ভয়ংকর কিছু! তেমনি একটি নাম THE LAKE NATRON এটা আর দশটা সাধারণ লেক বা হ্রদ নয় এটা এমন এক হ্রদ যার সৃষ্টি ই যেন হয়েছে মৃত্যু ডেকে আনার জন্য।
রক্তাক্ত হ্রদ

আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়া,আর তাঞ্জানিয়ার ই এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিগন্ত বিস্তৃত এই সুবিশাল লেক যাকে ওই অঞ্চলের মানুষ “মৃত্যু হ্রদ” বলেই ডাকে।

দিগন্ত বিস্তৃত এই হ্রদ যেন রক্তাক্ত ভূমি,এই রং যেন রক্তের রং কে ও হার মানায়। কোন প্রাণী সচরাচর ওই হ্রদে যায় না ,তার পর ও যদি কোন পাখি কিংবা জন্তু হ্রদের কাছে যায় সাথে সাথেই হয়ে যায় পাথর, অনেক সময় ওত কাছে ও যেতে হয় না তার আগেই জীবন্ত যেকোনো প্রাণী হয়ে যেতে হয় পাথর বিজ্ঞানেরে এই যুগে কোন রহস্য ই এখন আরত রহস্য নেই পাথর হও্যার কারণ খুঁজতে বিজ্ঞানের দ্বারস্ত হতেই জানা গেল এই রহস্যময় হ্রদের মূল রহস্য।

বিজ্ঞানীর ভাষ্যমতে অতিরিক্ত নাম না জানা(এখনো এই ব্যাকটেরিয়ার নাম কিংবা প্রজাতি জানা যায়নি) ব্যাকটেরিয়ার কারণে পানির রং এমন রক্ত বর্ণ। আর পানিতে প্রচুর পরিমাণে সোডা আর লবণ থাকায় পানি এতটাই কষ্টিক যে এই পানির সংস্পর্শে এলেই প্রস্তরিভূত হপ্যে যাচ্ছে প্রাণীরা।বিজ্ঞানীরা আরো জানাচ্ছেন হ্রদের পানিতে চারপাশের পাহাড় থেকে এসে জমা হয় প্রচুর ব্যাকটেরিয়া। পাশাপাশি পানিতে আছে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষার। যার মূল উৎস সোডিয়াম কার্বোনেট। পানির Ph Balance ১০.৫। নাট্রোন হ্রদের ধার বরাবর হেঁটে গিয়েছেন ফটোগ্রাফার নিক ব্রান্ডট। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ফসিল হয়ে যাওয়া একের পর এক পাখি এবং অন্য জীবজন্তু।

সোডিয়াম ব্যবহার করা হত প্রাচীন মিশরে। মৃতদেহ মমি করার জন্য। সেই উপাদানের জন্য এখানেও সংরক্ষিত হয়ে থাকছে প্রাণী-দেহে। বিকৃত হচ্ছে না চেহারা। শুধু রক্ত মাংসের বদলে সে তখন পাথরের।অতিরিক্ত ক্ষারের প্রভাবে পুড়ে যাচ্ছে কিছু প্রাণীর চোখ আর চামড়া। তবে কীভাবে এবং কেন প্রাণীদের মৃত্যু হচ্ছে সে নিয়ে এখনও সম্যক ধারনা নেই বিজ্ঞানীদের। সেটা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।

কিন্তু শুধু মৃত্যুফাঁদ নয়। এই হ্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে বাস্তুতন্ত্রে। কারণ এই হ্রদ এবং সংলগ্ন এলাকা বিলুপ্তপ্রায় লেজার ফ্লেমিঙ্গোদের ব্রিডিং প্লেস। ওই পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়াই এই পাখিদের প্রধান খাদ্য। তাছাড়া এই লোহিত হ্রদের থাকা জীবাণু-বৈচিত্রও পৃথিবীতে বিরল।
হ্রদের পানি প্রচন্ড গরম। স্বাভাবিক উষ্ণতা প্রায় ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। বুকের মধ্যে রক্তবর্ণ বিষ-পানি আর প্রাণীদের পাথর-দেহ নিয়ে শুয়ে আছে প্রকৃতির মেডুসা‚ THE LAKE NATRON

লেখকঃ শুভ্র ইমতিয়াজ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে