I HAVE A DREAM! এক কৃষ্ণাঙ্গ নেতার শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ

0
I have a dream

‘I have a dream’. মানুষের মুক্তির জন্য যে কটা ভাষণ শুনলেই নিজেকে বদলে ফেলতে ইচ্ছে করে, তাঁর মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে কালো মানুষদের মুক্তির দাবিতে যে কথাগুলো বলেছিলেন, আজ ছয় দশক পরেও সেভাবেই বলতে ইচ্ছে করে –
‘আমি স্বপ্ন দেখি – একদিন এই জাতি জেগে উঠবে, সম্পুর্ণ বিশ্বাস নিয়ে বলবে – “সৃষ্টির সকল মানুষই সমান।”……….
আমি স্বপ্ন দেখি – একদিন আমার চারটি সন্তান এমন এক দেশে বড় হবে যেখানে মানুষকে তার গায়ের রঙ দিয়ে নয়, চরিত্র দিয়ে মাপা হবে।…..
আমি স্বপ্ন দেখি – একদিন নিচু ভূমিগুলো উঁচু হবে, উঁচু পাহাড়-পর্বতগুলো নিচু হবে, এবড়ো-থেবড়ো জায়গা সব সমান হবে, বাঁকা পথগুলো সোজা হবে এবং ঈশ্বরের সেই সুন্দর মহিমা পৃথিবীর প্রতিটি জীবিত প্রাণী একসাথে দেখতে থাকবে।…’
I have a dream

১৯৬৩ সালে মার্টিন লুথার কিং শ্বেতাঙ্গদের বৈষম্যমূলক আইনের বিরূদ্ধে আন্দোলন ঘোষনা করেন। কিং তার অনুসারীদের নিয়ে দুইমাস ব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে যান, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল আলাবামাতে কালোদেরকেও সাদাদের সমান অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে হবে, কালোদের সর্বত্র প্রবেশাধিকার থাকতে হবে, শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে।এমনি এক শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ সমাবেশে আলাবামার পুলিশ সেই সমবেত জনতার উপর দমনমূলক নীপিড়ন চালায়, পুলিশ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জলকামান, টিয়ার গ্যাস, কুকুর লেলিয়ে দেয়াসহ সব রকম অত্যাচার করে সেই শান্তিকামী কালো জনতার উপর, শিশুরাও রেহাই পায়নি এর থেকে। মার্টিন লুথার কিং সহ আরও অনেকেই গ্রেফতার হন। এই ঘটনা খুব ব্যাপক সাড়া জাগায় সারা বিশ্বব্যাপী।

সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৬৪ সালের ২৮শে অগাস্ট দাসপ্রথা বিলুপ্তির ১০০ বছর পূর্তিতে অগণিত মানুষের সমাগম হয় ওয়াশিংটন ডিসির লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সামনে। সাদা কালো সকল বর্ণের মানুষ এসেছিল সেদিন ঐ শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ সমাবেশে কারন এই সমাবেশ ছিল কালোদের স্বাধীনতা বা মুক্তি এবং চাকুরীর নিশ্চয়তা সম্পর্কিত, এই সমাবেশে আমেরিকার দক্ষিনী রাজ্যের দুঃখী কালো মানুষদের হয়ে বক্তৃতা করেছিলেন মার্টিন লুথার কিং। ডঃ মার্টিন লুথার কিং ঐদিন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ, পৃথিবী শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা করেন, যা কিনা ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ নামে খ্যাত।

এই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, কিভাবে বর্ণবৈষম্য গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, শুধু কালো আমেরিকানদের জীবনকে নয়। এরপর তিনি তুলে ধরেন ভবিষ্যতের আমেরিকা নিয়ে তার আশাবাদকে, যেখানে সব আমেরিকান হবে সমান। এটাই হবে সত্যিকারের স্বপ্নের আমেরিকা। ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ শিরোনামের ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে যে একদিন জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে, সাবেক দাসের সন্তান আর সাবেক দাস-মালিকের সন্তান একসঙ্গে ভ্রাতৃত্বের আসনে বসতে সক্ষম হবে। আমার একটি স্বপ্ন আছে যে একদিন, এমনকি মিসিসিপি স্টেটে যে ছটফট করছে অবিচারের উত্তাপে, যে ছটফট করছে নিষ্পেষণের উত্তাপে, সেটিও পাল্টে গিয়ে হয়ে উঠবে মুক্তি আর ন্যায়ের মরূদ্যান। আমার একটি স্বপ্ন আছে যে আমার ছোট চারটি সন্তান একদিন এমন একটি জাতির মধ্যে বসবাস করবে, যেখানে গায়ের রং দিয়ে আর তাদের বিচার করা হবে না, করা হবে চরিত্রগুণ দিয়ে। এই ভাষণের প্রভাবেই ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আইন ও ১৯৬৫ সালে ভোটাধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়।আমেরিকা থেকে কাগজে কলমে, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্ণ বৈষম্য দূর হয়েছে। এই মানুষটি মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পান ১৯৬৪ সালে।

১৯৬৮ সালের ৪ঠা এপ্রিল শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্হী আততায়ী যুবকের গুলিতে মারা যান এই মহান নেতা।
আসিফ শুভ্র (লেখক , সমালোচক)

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে