আমি প্রধান বৈমানিক হিসেবে গত ১৯ শে জুলাই ২০১৮ তারিখে রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার পথে BS110 ফ্লাইটের উড্ডয়ন এর পরপরই প্রচন্ড ঝাঁকুনির সম্মুখীন হই , এবং বুঝতে পারি আমার বিমান এর চাকা ফেটে গিয়েছে । যেহেতু এর সাথে সাথেই আমরা উড্ডয়ন করে গিয়েছিলাম তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমরা ঢাকায় অবতরন করবো। ঢাকা আসার আরেকটি কারন ছিল ঢাকা বিমানবন্দর এ জরুরী অবতরনের সবধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা আছে এছাড়া আমাদের মেনটেননেস ঢাকায় আমাকে সব সহযাগীতা দিতে পুর্ন সক্ষম।
আমি আমার সহকারী বৈমানিক এর সাথে কথা বলে তাকে ঢাকায় অবতরনের প্রস্তুতী নিতে বলি।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো আমাদের প্রধান বিমানবন্দর ঢাকা সবসময়ই ব্যাস্ততম বিমানবন্দর গুলোর একটি, আর যেহেতু আমি জরুরী অবতরনের জন্য আসছিলাম তাই আমাকে কিছুটা সময় আকাশেই জ্বালানি তেল কমানোর জন্য কিছুটা সময় প্রদক্ষীন করতে হয়েছিল । ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট এ সেটাকেই অবতরনের চেস্টার কথা বলা হয়েছে। জ্বালানি তেল কমিয়ে অবতরনের আরেকটি মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল যদি কোন কারনে বিমানে আগুন লেগে যায় তাহলে যেন তা বেশীক্ষণ না জ্বলে এবং কম ক্ষয় ক্ষতি হয়। যেকোন ধরনের বিমান এর জরুরী অবতরনের জন্য সে কারনে জ্বালানি তেল এর হিসাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যেহেতু উড্ডয়ন এর পরপরই ঝাঁকুনী অনুভব করেছিলাম এবং চট্টগ্রাম কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল তারা রানওয়ে তে ফেটে যাওয়া টায়ার এর টুকরো পেয়েছে, সে কারনেই আমরা ধরে নিয়েছিলাম আমাদের টায়ার ফেটে গিয়েছে।
আমরা যেহেতু নিশ্চিত ছিলাম না আমাদের কোন টায়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই আমি আমার সহকারী বৈমানিক এর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেই , আমরা একবার ঢাকা বিমানবন্দর এর উপরে কিছুটা নিচে দিয়ে উরে যাবো , যাতে নিছে থেকে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারের দল আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত চাকাটি দেখে আমাদের জানাতে পারে। বিমানটির সঠিক অবতরন এর জন্য এটি আরেকটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত চাকাটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই কিভাবে অবতরন করবো তা নিয়ে আমি আমার সহকারী বৈমানিক এর সাথে দ্রুত আলোচনা ফেলি এবং পরবরতি এপ্রোচেই অবতরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি ।
অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সবধরনের প্রস্তুতুতি নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে অবতরন এর জন্য আসি। যেহেতু আমার ডান পাশের চাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল সেকারণেই খুব সাবধানতার সাথে আগে বাম চাকা নামাই তারপর ডান চাকা এবং সব শেষে সামনের চাকা।
It was the finest landing of my whole flying life , ALHAMDULILLAH!
সবার অবগতির জন্য জানাতে সেই BS110 ফ্লাইটের সেই সব মানুষ গুলোর সবারই প্রতিটি মুহুর্ত খুব উৎকন্ঠায় কেটেছে। ৮০ টি জীবন মাঝ আকাশে। সেই বিমান এর প্রধান বৈমানিক হিসেবে সময়ে সময়ে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত গুলো সম্মানিত যাত্রী দের জানিয়েছি এবং ভীত না হতে আশ্বস্ত করেছি।
পেশাজিবী বৈমানিক হতে আমি দেশে বিদেশে বিভিন্ন নাম করা প্রশিক্ষণ একাডেমী অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতা মুলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আজ আমি আমার বিমানের ক্যাপ্টন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। দীর্ঘ ১৫ বছর এর উড্ডয়নের পর ঐদিনই আমি প্রথম টায়ার ফেইল এর সম্মুখীন হই।
আমরা প্রতিদিন প্রতিবার উড্ডয়ন এর পূর্বে বিমান ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করেই উড্ডয়ন করে থাকি। সেদিন রাতে আমাদের বিমানটিতে উড্ডয়নের পূর্বে একটিও ত্রুটি ছিল না।
আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন রাতে আমরা সবাই নিরাপদে অবতরন করতে সক্ষম হয়েছি, একজন যাত্রী ও বিন্দু মাত্র আহত হননি, একটিমাত্র টায়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছারা পুরো বিমানটি ছিল পুরোপুরি অক্ষত আলহামদুলিললাহ।
একজন পেশাগত বৈমানিক হিসেবে প্রতিদিন আমরা যারা বিমান পরিচালনার সাথে জড়িত আমাদের প্রত্যকের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হলো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।এটি একটি মহান পেশা এবং সে কারনে আমি একজন গর্বিত বৈমানিক ।
যেকোন ধরনের বিমান দুর্ঘটনার পর কিছু এভিয়েশনবাগীদের বিনীত অনুরোধ করবো টায়ার ফেল গুলো নিয়ে GOOGLE এ হোমওয়ারক গুলো সেরে ফেলবার জন্য এবং পরবরতিতে ক্লাস ওয়ারক এ গে্য়্যন ঝারবার জন্য ।অবশ্যই তাদের গে্য়্যন ঝারবার জন্য তো ভার্চুয়াল ওয়াল এর অভাব হবে না বৈ কি ?????
Last but not the least I would like to thank my team,my entire crew set First Officer RAFI, Cabin In Charge ANIK and Cabin Crew Moushumi for their brilliant work handling the emergency as trained professional.
Alhamdulillah – all the praises and thanks be to ALLAH
ক্যাপ্টেন সাদ বিন কামালের টাইমলাইন থেকে