দুইদিন মৃত্যুর সাথে লড়ে মৃত্যু হলো এক সাহসী অটোচালকের!

0
কুমিল্লা Cumilla

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) কুমিল্লার মুরাদনগরে কিশোরীকে তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় বখাটেদের ছুরিকাঘাতের আহত অটোরিকশাচালক আবদুল জলিল দুই দিন পর অবশেষে মারা গেছেন। গতকাল শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তি উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কুলুবাড়ি গ্রামের প্রয়াত সাজেদ আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পূর্বে আবদুল জলিল পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁর এই ছুরিকাঘাতের বর্ণনা দিয়ে যান। এ ঘটনায় আজ সন্ধ্যা ৬টায় মৃত জলিলের সহধর্মিণী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তিদের নামে হত্যা মামলা করেন।

পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনজন যাত্রী নিয়ে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার থেকে উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে যান চালক জলিল। পরে ওই তিন যাত্রী যাত্রাপুর গ্রাম থেকে এক কিশোরীকে তুলে আনার প্রস্তাব দিলে জলিল তাতে রাজি হননি। উপরন্তু তিনি এ কাজে ওই তিনজনকে বাধা দেন। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডিতার একপর্যায়ে যাত্রীবেশী বখাটেরা কোমর থেকে ছুরি বের করে আবদুল জলিলের পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় কোনো ভাবে পেট চেপে ধরে দৌড় দেন জলিল এবং পাশের এক বাড়িতে পৌঁছে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এ অবস্থায় বখাটেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ওই বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে এসে জলিলকে প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! দুইদিন মৃত্যুর সাথে লড়ে আজ ভোর পাঁচটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসাপাতালে মারা যান আবদুল জলিল। মৃত্যুর পর তার লাশ দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাঁর লাশ বাড়িতে আনা হলে তাঁর স্বজনদের আহাজারিতে আশেপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে আচমকা এভাবে হারিয়ে পাগলপ্রায় স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও তাঁর একমাত্র মেয়ে জান্নাত আক্তার। এরপর সন্ধ্যায় লাশ দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়।

মৃতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, তাঁর স্বামী জলিল ছিলেন সহজ-সরল ও মিশুক প্রকৃতির। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময়ই সোচ্চার ছিলেন। শাহনাজ বেগমের এখন একটাই দাবী, আর তা হলো তিনি স্বামী হত্যার বিচার চান।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান বলেন, ‘নিহতের স্ত্রী তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মৃত্যুর আগে নিহত জলিল সাহেব পরিবারের সদস্যদের কাছে ছুরিকাঘাতের বর্ণনা দিয়ে যান বলে জানা গেছে। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। আমরা ইন শা আল্লাহ খুব দ্রুতই ওই বখাটেদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবো বলে আশাবাদী।’