বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ যখন চাষাবাদ স্থল!

0

করোনা ভাইরাস মহামারীতে প্রায় ১৬মাসের বেশি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আর এই বন্ধে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে চলছে চাষাবাদ, যার অনুমতি দিয়েছে স্বয়ং কর্তৃপক্ষ।এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো রাজাপুর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুরের ‘ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়’, ‘ফিরোজা মজিদ বিদ্যালয়’ ও ’দক্ষিণ রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’।


ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার জন্য একটিই মাঠ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নষ্ট হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক স্কুলমাঠ ‘লাগিয়ে’ (ভাড়া) দিয়েছেন। স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখানে ফুটবল খেলতো। বর্ষা মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের জনপ্রিয় খেলার একটি ফুটবল। কিন্তু এখন আর খেলাধুলার কোনো সুযোগই রইল না।
ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে যে ব্যক্তি চাষ করছেন তার নাম মোশারফ আলী হাওলাদার।
এই বিষয়ে তার সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছ থেকে নগদ অর্থের বিনিময়ে সরকার দলের স্থানীয় এক নেতা স্কুল মাঠ চাষ করার অনুমতি নিয়েছেন।


তবে প্রধান শিক্ষক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক অর্থের বিনিময়ে মাঠ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যমতে, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না; সব বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি করেছে।
ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আলিম আল মাসদ বলেন, “এখন তো স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুল মাঠে বীজতলা তৈরি করলে এর সুবিধা কোনো না কোনোভাবে সবাই ফল ভোগ করবে।”
দক্ষিণ রাজাপুরের ফিরোজা মজিদ বিদ্যালয়ের মাঠেও দেখা যায় একই অবস্থা। সেখানেও বীজতলা তৈরির অনুমতি দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঐ মাঠে বপন করা হয়েছিল ধানের বীজ। এখন সেই সব চারা বড় হতে শুরু করেছে।