ফোর-জি চালু হলেও ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ মোবাইল গ্রাহক ফোর-জি সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন

0
39

ফোর-জি হচ্ছে ফোর্থ জেনারেশন বা চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোন প্রযুক্তি। এর আগের প্রজন্মের প্রযুক্তি ছিল টু-জি এবং থ্রী-জি। টু-জিতে কেবল ফোন কল করা এবং টেক্সট মেসেজ পাঠানো যেত। এরপর থ্রী-জি প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কল করা এবং মিউজিক ও ভিডিও ডাউনলোড করার সুযোগ তৈরি হয়।
ফোর-জি
মোবাইল ফোনের থ্রী-জি’তে যা যা করা সম্ভব, তার সবকিছু ফোর-জি’তেও করা যাবে, তবে দ্রুতগতিতে এবং ভালোভাবে। ফোন কলের মান হবে অনেক ভালো, ভিডিও কল করা যাবে ভালোভাবে, দ্রুত ভিডিও ডাউনলোড করা যাবে।

বহুল কাঙ্ক্ষিত ফোর-জি টেলিযোগাযোগ সেবা বাংলাদেশে চালু হচ্ছে সোমবার। সন্ধ্যায় মোবাইল অপারেটরগুলো ফোর-জির লাইসেন্স বুঝে পাবে। এরপরই চালু করবে ফোর-জি সেবা। কিন্তু, এই সেবা কতজন পাবেন, তা নিয়ে এখনই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে হ্যান্ডসেটের ধারণা ক্ষমতা।

হ্যাঁ, আপনার স্মার্টফোন আছে। কিন্তু, সেটি কি ফোর-জি নেটওয়ার্ক ধারণ করতে পারবে? আইটি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি ফোনটি এফডিডি-এলটিই ৯০০ বা ১৮০০ বা ২১০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি সমর্থন করে, তবে তাতেই কেবল ফোর-জি ব্যবহার করা যাবে।

আপনার হ্যান্ডসেটের ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা ঠিক আছে, তারপরও দেখছেন সেটিতে ফোর-জি চলছে না। সেটা কেন? উত্তর এক কথায়, স্মার্টফোনটি ফোর-জি সমর্থিত করে তৈরি করা হয়নি। কিন্তু, ফোর-জি সিম নিয়েছেন, হ্যান্ডসেটও ফোর-জি সমর্থিত। তারপরও ফোর-জি চলছে না। সেক্ষেত্রে কি করবেন?

জানা গেছে, ফোর-জি নেটওয়ার্কের মাঝে বেশ কিছু ধরণ ও সংস্করণে পার্থক্য রয়েছে। আর এর ফলে ফোন ফোর-জি সমর্থিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বাংলাদেশে ফোর-জি ব্যবহার করতে পারবেন না।

বাংলাদেশে ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতেই ফোর-জি সেবা দেবে অপারেটররা। এজন্য শুধুমাত্র এসব গ্রাহকরাই ফোর-জি সেবা নিতে পারবেন। আর এই তিনটি ফ্রিকোয়েন্সি ও ব্যান্ড ইউরোপে বহুল প্রচলিত।

ফলে ইউরোপীয় সংস্করণের ফোনগুলোতে ফোর-জি ব্যবহার করা যাবে। তবে চীনা সংস্করণগুলো এফডিডিএলটিই সমর্থন না করায় তাতে ফোর-জি চলবে না। আবার আমেরিকা থেকে আসা ফোনগুলোর মাঝে সবগুলো সংস্করণ ফোর-জি সেবা দিতে পারবে না।

তবে যারা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি করা ফোর-জি সমর্থিত স্মার্টফোন কিনেছেন, তাদের চিন্তার কিছু নেই। এসব ফোনে সরাসরি ফোর-জি কাজ করবে। এর বাইরে ফোর-জি নিয়ে আইফোন গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ রয়েছে। ফোর-জি সুবিধা সহসাই মিলছে না তাদের। বাংলাদেশের কান্ট্রিকোডে আইফোনের ফোর-জি সেবা সংক্রান্ত কারিগরি সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে না উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আইফোন কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে জানিয়েছে, এজন্য এক থেকে দেড় মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন যে সব মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে, তার মাত্র ১০ থেকে ১৫ ভাগ ফোর-জি সমর্থিত। অর্থ্যাৎ ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ মোবাইল গ্রাহক ফোর-জি সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ ফোন ফোর-জির ফ্রিকোয়েন্সি ধারণ করতে সক্ষম।

তবে মোবাইল ফোন আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বাজারে এখন ১০ হাজার টাকার ওপরে যেসব স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর সবই ফোর-জি সমর্থিত। হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা বলছেন, সব মিলে এখন ৪৫ লাখের মতো মানুষের কাছে ফোর-জি সমর্থিত স্মার্টফোন রয়েছে।দেশে গ্রামীণফোনের সাড়ে ৬ কোটি, রবির ৪ কোটি ২০ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ২০ লাখ এবং টেলিটকের ৪৪ লাখ গ্রাহক রয়েছে।গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তাদের ১৪ শতাংশ গ্রাহকের হাতে ফোর-জি হ্যান্ডসেট রয়েছে। যদিও তারা ইতোমধ্যে ১ কোটি গ্রাহককে ফোর-জি সিম দিয়েছে।