কমিয়ে ফেলুন টেলিভিশনে আসক্তি!

0
কমিয়ে ফেলুন টেলিভিশনে আসক্তি

আচ্ছা একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমাদের কয়জনের ই বা ভালো লাগে বলুন তো? এই একটানা পড়ার একঘেয়ামি কাটানোর জন্য অনেকের কাছে প্রধান উপাদান টিভি। বিনোদনের অংশ এই টিভিও কিন্তু কম ভয়ংকর কিছু নয়! রিমুড একবার হাতে পেলেই হলো। কাজ শেষ! ২ ৩ ঘন্টা নিমিষেই কোথায় চলে যাবে তা যে বুঝার উপায়ও নেই! টেলিভিশনের এই মারাত্নক আসক্তি কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আজকের এই লেখা।

সহজ ভাষায় যদি বলি তাহলে আসক্তি বলতে যা বুঝি কোনো কাজের প্রতি ব্যক্তির নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এবং একটানা তা অরতে থাকা। যেকোনো আসক্তির অন্তিম ফলাফল সবসময় কিন্তু শূন্যই হয়। লাভ তো নেই তার উপর আবার বাড়তি ঝামেলা নিজের প্রতি।

সময়ের হিসেব করুন

প্রতিদিন আপনি কত ঘণ্টা করে টিভি দেখছেন তার হিসাব রাখুন। এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর মাধ্যমে দেখা যাবে আপনি দিনের কতভাগ সময় আপনার বিনোদন হিসেবে টিভির সাথে কাটাচ্ছেন। এরপর দিনশেষে সেই তালিকা বের করে আপনি নিজেই দেখুন সময়ের পরিমাণটা। বিচারটা আপনিই করুন এতে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কীভাবে নষ্ট করছেন সময়টা। মূল কথা আপনার মনের মধ্যে আত্ম-উপলব্ধি জাগানোই কিন্তু প্রথম শর্ত

লক্ষ্য ঠিক করুন

কোন নির্দিষ্ট জিনিসের উপর থেকে আপনার মনোযোগ সড়ানোর জন্য লক্ষ্য ঠিক করা যেতে পারে। এজন্য ঠিক করুন একটি ভিন্নধর্মী লক্ষ্য। কী হবে সেই লক্ষ্য? যেকোনো কিছুই হতে পারে তবে তা যেনো ভালো হয় সেই দিকটা খেয়াল রাখবে হবে আপনাকে। নতুন কিছু রান্না করতে শেখা, কিংবা বারান্দায় ছোট একটি বাগান করা ইত্যাদি বিষয় রাখতে পারেন তালিকায়। ৩ মাসের মধ্যে হাতের লেখা সুন্দর করা, দ্রুত করাও হতে পারে দারুণ এক লক্ষ্য। একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করলে হবে কি ওই সময়টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আপনার মধ্য থেকে আসক্তি কমে আসবে। ফলে টিভি দেখে দিনের অধিকাংশ সময় নষ্ট করতে ইচ্ছা করবে না আর। নিজের শখের কাজ গুলোকে মাথায় রেখে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের তালিকা ঠিক করুন এবং লেগে যান আজই। এতে আসক্তি ভুলে নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনে মনমানসিকতা হবে আপনার মধ্যে।

খুঁজতে পারেন বিকল্প

টিভিই কি শুধু বিনোদনের মাধ্যম? আছে আরো অনেক কিছুই। আপনার প্রতিদিনের বিনোদনের জন্য বেছে নিতে পারেন অন্য মাধ্যম।একটানা টিভি না দেখে সময় ব্যয় করুন অন্য কাজেও। ব্যস্ত রাখুন নিজেকে নানানভাবে। যেমন কিছু ভালো উদাহরণ দিতে চাই আমরা। পড়তে পারেন ভালো কোনো বই, কিংবা ছবিও তুলতে পারেন। ঘুরতে যেতে পারেন কারো সাথে। ফোনে কথা বলে নিতে পারেন পরিচিত কোনো আত্নীয়ের সাথে। আড্ডা দিতে পারেন পরিবারের সবার সাথে। ছাদেও খেলতে পারেন। কথা বলতে পারেন পাশের বাসার কারো সাথে এতে পরিচয় হওয়ার সুযোগ পাবেন অন্যদের সাথে। সেই তালিকায় যুক্ত করতে পারেন কবিতা বা ছোট কিছু লেখালেখি করার দারুণ কিছু অভ্যাসও। এর পাশাপাশি এছাড়াও প্রতিদিন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাসও করা যেতে পারে যা টিভির প্রতি আপনার দূরত্ব বানাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। বিশ্বাস না হলে করেই দেখুন!

করুন ব্যায়াম

প্রতিদিন হালকাভাবে ব্যায়াম করাও কিন্তু কার্যকরী ভূমিকা রাখবে আপনার আসক্তি কমাতে। আচ্ছা আপনি কি জানেন? নিয়মিত ব্যায়াম মানসিকভাবে চাপমুক্ত রাখে? শুধু তাই নয়, প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম আপনার মনের অস্থিরতাও কিন্তু কমায়। পাশাপাশি আপনাকে সাহায্য করবে আপনার মনোযোগ বৃদ্ধিতেও। এর ফলাফল হিসেবে আপনি যেকোনো কাজেই পুরোপুরিভাবে নিজের মনোযোগ দিতে পারবেন এবং দূর হয়ে যাবে আপনার শরীরের সকল একঘেয়ামী। যোগব্যায়াম করলেও আপনার মনের যেকোনো ধরণের মানসিক অশান্তি দূর হয়ে যাবে খুব দ্রুত। এটি বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষিত একটি তথ্য বলা চলে। টিভিথেকে আপনার মনোযোগ সড়াতে প্রতিদিন কম হলেও অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন, যা কার্যকরী ভূমিকা মনের পাশাপাশি রাখবে আপনার শরীরেও

উপরের সবকটি কাজ স্বাভাবিকভাবে শুরুর সময়ে আপনার জন্য কঠিন মনে হলেও এটিই কিন্তু আপনার আসক্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি কঠিন অনুভূত হলেও, আসক্তি কমানোর জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন যেকোনো কাজেই প্রথম শর্ত আপনার ইচ্ছেশক্তি। ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়।