সোমবার (২ অক্টোবর) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার। এজন্য উভয়পক্ষ একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে সমস্যার সমাধানে কাজ করবে।

দুপুরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মিয়ানমারের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন,‘প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুই পক্ষ একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে।এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপে কারা থাকবেন তা দুই পক্ষ মিলে ঠিক করবে। তবে এটি কবে নাগাদ হবে সেটি এখনও ঠিক হয়নি, তবে দ্রুত হবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, ‘চুক্তির খসড়াও তাদের (মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে আছেন। তিনি খুব দ্রুতই মিয়ানমার যাবেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে চাই।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে তারপর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আমরা প্রস্তাবটি হস্তান্তর করেছি। তারা এখন এটি নিয়ে যাবে।
যাদের রোহিঙ্গা হিসেবে আগে থেকে শনাক্ত করা আছে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চুক্তিটা আগে হোক, তারপরে বিষয়টি ঠিক করা হবে।
মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ আলোচনা পাঁচ দফা সম্পর্কিত নয়। আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। প্রক্রিয়াটি শুরু হলো।’
মিয়ানমার সময়ক্ষেপণ করছে কিনা সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আলোচনার আগেই যদি নাকচ করে দেন, তবে আলোচনা হবে না। অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আশাবাদী।’ আনান কমিশনের রিপোর্টের বিষয়টি আলোচনায় তোলা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।












