আপনার টেলিস্কোপ দিয়ে শনি গ্রহের বলয় দেখা যাবে?

0
টেলিস্কোপ

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ– বিশাল বড় লেখা, অনুরোধ করবো সময় ও
ধৈর্য নিয়ে পড়বেন। আরো অনুরোধ করবো পুরোটা না পড়ে কেউ কেন কমেন্ট করবেন না । কোন অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট করবেন না। এই লেখায় আপনাদের অনেকের অনেক প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।)
টেলিস্কোপ
হ্যালো – ভাইয়া আপনার টেলিস্কোপ দিয়ে শনি গ্রহের বলয় দেখা যাবে?
আজাদ টেকনোলজি – জি যাবে। তবে সব গুলো দিয়ে দেখা যাবে না।
হ্যালো – অামার শনি গ্রহের বলয় দেখার খুব শখ। শনি গ্রহের বলয় দেখা যাবে এমন একটা টেলিস্কোপের দাম কেমন পড়বে?
আজাদ টেকনোলজি – আপনি কি আমার টেলিস্কোপের কথা বলছেন না অন্য টেলিস্কোপের কথা বলছেন ?
হ্যালো – জি আপনার টেলিস্কোপের কথা বলছি।
আজাদ টেকনোলজি – ……….. টাকা বা তার উপরে।
হ্যালো – ……….. টাকা, এত দাম। এত দাম কেন ? আচ্ছা টাকা জমিয়ে নেই তার পর কিনবো।

শনি গ্রহের বলয়। খুবই একটি চমৎকার একটি জিনিস। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না শনি গ্রহের বলয় কি ভাবে দেথতে হয়। আনেকের ধারণা যে কোন একটি টেলিস্কোপ কিনলেই এটি দেখা সম্ভব। আবার অনেকে মনে করেন যে কোন একটি টেলিস্কোপ কিনলেই মহাকাশের সব কিছু তার চোখের কাছে চলে আসবে। তাদের জন্য এই লেখা।

মহাকাশ অনেকের কাছেই একটি বিশ্বয়ের আবার অনেকের কাছে মামুলি বিষয়। মহাকাশের কতটা গুরুত্ব আপনার আমার জীবনে তার ২/৩ টা ছোট উদাহরণ দিয়ে লিখাটি শুরু করছি।

আপনারা জেনে হোক আর না জেনে হোক একটি মস্ত বড় মহাকাশযানে অবস্থান করছেন। একটি ঘুর্ণয়মান মহাকাশ যান। আর সেটি হচ্ছে পৃথিবি। জ্বি পৃথিবী নিজে ঘুরছে। সূর্য চার পাশে ঘুরছে। সূর্য গ্যালাক্সীর মাঝে ছুটে চলছে। গ্র্যালাক্সী ও মহাকাশে ছুটে চলেছে। যদি কোন কারণে গ্রেভেটি আর বায়ুমন্ডল কাজ করা বন্ধ করে দিত, তা হলেই টের পেতেন।

রাতের আকাশে আমরা খালি চোখে ৭-৮ হাজার তারা দেখতে পাই। আসলে তারা নয় এর কোনটি গ্রহ, কোনটি নক্ষত্র, কোনটি গ্যালাক্সি, কোনটি নেবুলা, কোনটি অ্যাসট্রোরয়েড, কোনটি ধুমকেতু আর চাঁদ তো আছেই। মাঝে মাঝে সুপার নোভা ও দেখা যায়। তবে খালি চোখে এগুলো সবই তারা। শুধু পৃথিবী খেকে চাঁদের দূরত্ব ২লক্ষ ৪০ হাজার মাইল। বাকি গুলোর দূরত্ব একটু গুগল কে নক করলেই আপনাকে জানিয়ে দিবে।

এখন কথা হচ্ছে এই গুলো আপনি কি ভাবে টেলিস্কোপ দিয়ে দেখবেন ?

একটু পেছনে যাই। গ্যালিলিও সাহেব তার টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশের অনেক বস্তু পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। উনি যেই সময় ইটালীর ভেনিস শহরে উনার টেলিস্কোপ দিয়ে রাতের আকাশ দেখতেন তখন ইটালী কেন সারা পৃথিবীর কোথাও এমন কোন কল কারখানা ছিল না যার থেকে কালো ধোয়া নিগর্ত হত। মটর গাড়ি ছিল না। বৈদ্যুতিক বাতি ছিল না। মানুষ হারিকেন ব্যবহার করতো। আকাশ বাতাস দুটোই ছিল নির্মল। মানে কোন লাইট পলিউশন, এয়ার পলিউশন, ডাস্ট পলিউশন ছিল না। সময়ের সাথে সাথে প্রচুর পরিমাল কল কারখানা, যান্ত্রিক গাড়ি আর বৈদ্যুতিক বাতি তে আমাদের চার পাশ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন এমন অনেক শহর আছে যে খানে কখনো রাতের বেলায়ও বৈদ্যুতিক বাতির কল্যাণে রাত হয় না। তাই এখন হাজার চেষ্টা করলেও আপনি গ্যালিলিও সাহের টেলিস্কোপটি দিয়ে তেমন কিছুই দেখতে পারবেন না।

একই অবস্থা আমাদের দেশের আকাশেও। বিভাগীয় শহর গুলোর আকাশের অবস্থা খুবই খারাপ। এয়ার পলিউশন আছে, ডাস্ট পলিউশনও অাছে। আর একটা জিনিস অনেকেই জানেন না তা হচ্ছে সুক্ষ্ম ধূলার কণা আলোর ফোটন কণার দ্বারা আকৃষ্ট হয়। যার কারণে রাতের আকাশে লাল রং এর আলো দেখা যায়। যাকে নাইট গ্লো বা লাইট পলিউশন বলে। আর এই আলোর উৎস হচ্ছে আমাদের রাতের শহর আলোকিত করার বাতি। থেয়াল করে দেখবেন কল কারখানা, বৈদ্যুতিক বাতি এলাকায় কম আছে বা মটর গাড়ি যে খানে কম চলাচল করে সেখানের রাতের আকাশ অনেক অন্ধকার থাকে।

এবার মূল কথায় আসি

আমাদের দেশে রাতে আকাশ দেখার সবচেয়ে ভাল স্পট গুলো হচ্ছে গ্রাম অঞ্চল, নদীর পাড়, চর, হাওড়, বিল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, সুন্দরবন, সিলেটের বন ও পাহাড়ি এলাকা, ময়মনসিংহ এর পাহাড়ি এলাকা, চিটাগাং এর পাহাড় ও সমুদ্র দ্বীপ গুলো ।

আবার সমতল ভূমির তুলনায় পাহাড়ের উপর আকাশ আরো ভাল দেখা যায়।

আকাশের তারা গুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। শীত কালের আকাশ এবং গ্রীষ্ম কালে আকাশ। শীত কালের রাত বড় এবং গ্রীষ্ম কালের রাত ছোট। শীত কালের আকাশে অাপনি যে তারা গুলো দেখবেন গরম কালের আকাশে সেগুলো দেখবেন না। অামাদের গ্রহ গুলোও সূর্যর সাথে আবতির্ত হচ্ছে । তাই শীতের আকাশে আপনি শনি গ্রহ দেখতে পারবেন না। কারণ শীত কালে শনি গ্রহ সূযের সাথে দিনের আকাশে উদিত হয় এবং সূযের সাথেই অস্ত যায়।তাই রাতের আকাশে তাকে দেখা যায় না। একই ভাবে গ্রীষ্মের আকাশে আপনি বৃহস্পতি গ্রহ দেখতে পারবেন না। সাথে পারবেন না দেখতে ইউরেনাস ও নেপচুন । আর যদি পারেনও গভীর রাতে পারবেন । ভোর হওয়ার আগে। শীতকালে রাত বড় হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক তারা এই সময়ই আকাশে উদিত হয়। এমন অনেক তারা এই সময় দেখা যায়, যা সারা বছরের আর কোন সময় দেখা যায় না।

আরও কিছু বিষয় আছে আমাদের দেশের আকাশ থেকে সব তারাও দেখা যায় না। এমন অনেক তারা বা তারামন্ডল আছে যা আপনি শুধু পৃথিবীর উত্তর কিংবা দক্ষিণ গোলাদ্ধের থেকে দেখতে পারবেন। উত্তর গোলাদ্ধের থেকে যেই তারা বা তারা মন্ডল দেখবেন তা দক্ষিণ গোলাদ্ধের থেকে দেখতে পারবেন না। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আকারে চাঁদ দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া থেকে। সবচেয় ভাল রাতের আকাশ দেখা যায় মরুভূমি থেকে। আবার আমেরিকার যখন রাত বাংলাদেশে দিন। যদি শুনেন আমেরিকায় সূর্য গ্রহণ দেখা যাবে তখন বাংলাদেশে বসে আপনি তা দেখার চেষ্টা ভূলেও করবেন না।

বছরের অন্য সময়ের তুলনায়। শীত কাল আর শরৎ কাল আকাশ দেখার সবচেয়ে ভাল সময়। শীত কালে ডিসেম্বর থেকে মার্চ আকাশ প্রায় মেঘ মুক্ত থাকে। মাঝে মাঝে কুয়াশা একটু সমস্যা করলেও প্রায় নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে এই কয় মাস আকাশ দেখা যায়।

শরৎতের আকাশে মেঘ থাকে প্রায় ই। তবে বৃষ্টির পর আকাশ খুব পরিষ্কার থাকে । একই সাথে বর্ষা কালেও বৃষ্টির পর আকাশ মাঝে মাঝে পরিষ্কার পাওয়া যায়। তবে বজ্র্রপাতের সম্ভাবনা থাকলে খোলা আকাশের নীচে টেলিস্কোপ নিয়ে না দাড়ানোই ভাল।

একটি টেলিস্কোপ কিনার পর সবার আগে যে জিনিস টি দেথা দরকার সেটি হল চাঁদ। চাঁদের তিনটি পর্যায় দেখা যায়। ১ D সেপ , ২ পূর্ণ চাঁদ , ৩ দিনে বেলার চাঁদ। তা হলে চাঁদের পাথর্খ্য গুলো সঠিক ভাবে অনুধাবন করা যায়।

যথন আকাশে চাঁদ থাকবে তখন অন্য কিছু দেখার চেষ্টা না করাই ভাল । কারণ চাঁদের আলো অন্য বস্তুগুলো থেকে আসা আলোকে ম্লান করে দেয়। অমাবশ্যা বা নতুন চাঁদ উঠার ১ম তিন দিন এই সময় গুলোতে মেঘ মুক্ত রাতের আকাশের অন্য বস্তু গুলো ইচ্ছে করলে দেখতে পারবেন।

যারা সৌখিন কিন্তু প্রফেশনাল ভাবে আকাশ পর্যবেক্ষণ করেন তারা সব সময় পরামর্শ দেন ৬০০ থেকে ৮০০ মি.মি. এর টেলিস্কোপ ব্যবহার করার জন্য যারা নতুন আকাশ পর্যবেক্ষণ করবেন । এই টেলিস্কোপ গুলো তুলনা মূলক হালকা এবং সহজে পরিবহন করা যায়। দুই একটি অবজেক্ট বাদে এই টেলিস্কোপ গুলো দিয়ে বেসিক অ্যাসট্রোনমির প্রায় ৬০-৭০ ভাগ বস্তু দেথা যায়। এর মাঝে পড়ে চাঁদ, শুক্র গ্রহের কলা, বৃহস্পতি গ্রহ ও এর বড় ৪টি উপগ্রহ, কিছু ধূমকেতু, কিছু গ্যালাক্সি ও কিছূ নেবুলা এবং বেশ কিছু নক্ষত্র ও জোড়া নক্ষত্র (বাইনারি স্টার)।এ ছাড়াও সান ফিল্টার ব্যবহার করলে আপনি দেখতে পারবেন সৌরকলঙ্ক ও বুধ গ্রহ। তবে উল্কাবৃষ্টি খালি চোখেই দেখা যায়।

তবে আপনাকে জানতে হবে আকাশের কোন দিকে, কোন নক্ষত্র মন্ডলে, বছরের কোন সময়, রাতে বা দিনে ঘড়ির সময় কয়টায়, কি অবস্থান করছে, এই বিষয় গুলো। তবেই আপনি টেলিস্কোপ এর সহায্যে কিছু খুজে বের করতে পারবেন।

আরো জানতে হবে ট্রাইপড এবং টেলিস্কোপকে কি ভাবে ব্যালেন্স করবেন। কিভাবে টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ বা অন্য বস্তু গুলোকে টার্গেট করবেন। চাঁদ পৃথিভীর কাছে হলেও অন্য বন্তু গুলো পৃথিবী থেকে কয়েক লক্ষ মাইল বা কয়েক লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। যদি আপনার কোন পূর্ব অভিঙ্গতা না থাকে, আপনার হাতে একটি বন্দুক তুলে দিয়েই যদি বলা হয় এক কিলো দূরের একটি লোকের ঠিক কপালে গুলি করতে, পারবেন কি একদম নির্ভুল ভাবে কাজটি করতে? তবে প্রাকটিস করলে অবশ্যই পারবেন। একে বলে টেলিস্কোপ এডাপটেশন। টেলিস্কোপ দিয়ে একটি দূরবর্তী বস্তু খুঁজে বের করে তা পর্যবেক্ষণ করাটা ও একই রকম। এর সাথে লক্ষ রাখতে হবে টেলিস্কোপ দিয়ে যখন রাতের আকাশ দেখবেন তখন যেন আশে পাশে কোন উজ্বল আলো না থাকে। এর ফলে টেলিস্কোপে অবজেক্ট খুজে বের করতে অসুবিধা হবে। টেলিস্কোপ সেট করা হয়ে গেলে অালো নিভিয়ে ১০ মিনিট চোখকে অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে দিবেন।এটা কে বলে ডার্ক এডাপটেশন। এর ফলে আপনার চোখের পিউপিল বড় হয়ে যাবে এবং বেশি আলো সংগ্রহ করতে পারবে। এই অবস্থায় যতক্ষণ আকাশ পর্যবেক্ষণ করবেন ততক্ষণ খুব বেশি প্রযোজন না হলে কোন উজ্বল আলোর দিকে তাকাবেন না।

এবার আসি শনি গ্রহের বলয়ে
আপনি জানেন কি শনি গ্রহ ছাড়াও বৃহস্পতি ও ইউরেনাস গ্রহের ও পাতলা বলয় আছে। যা অবজারভেটরি বা মানমন্দিরের টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা যায়। জ্বি সৌখিন আকাশ পযর্ক্ষকদের জন্য এক ধেরণের টেলিস্কোপ আর প্রফেশনাল আকাশ পযর্ক্ষকদের জন্য আর এক ধরণের টেলিস্কোপ। প্রফেশনাল পযর্ক্ষকদের জন্য টেলিস্কোপ বা অবজারভেটরি রাষ্ট্রিয় বা প্রাইভেট বড় কোন প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনে এবং অর্থায়নে নির্মিত হয়। এই সব অবজারভেটরি গুলো মূলত পাহাড়ের উপরে, দ্বীপে বা মরুভূমিতে বিশাল এলাকা নিয়ে স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে গবেষকদের থাকা খাওয়ার সুবিধা থাকে। এই গুলো বেশির ভাগ ই নিউট্রনিয়ান জাতীয় টেলিস্কোপ। এই টেলিস্কোপ গুলোকে কম্পিউটারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভাবে নিয়ত্রণ করা হয়। এই রকম ছোট খাটো একটি টেলিস্কোপের মিররের দৈর্ঘ্য একটি ক্রিকেট পিচের সমান। বর্তমানে একটি ফুটবল মাঠের দৈর্ঘের সমান মিরর ওয়ালা টেলিস্কোপ স্থাপনের কাজ চলছে। এই ধরণের টেলিস্কোপ দিয়ে আপনি শনি গ্রহের বলয় খুব ভাল মত দেখতে পারবেন। এমন কি বলয়ের স্তর গুলোকেও গুনতে পারবেন । চাঁদের মাটি পাখর বালি কণা এ সব ও দেখতে পারবেন। মঙ্গল গ্রহের মেঘ দেথতে পারবেন।

এবার আসি আপনার আমার মত সৌখিন আকাশ পর্যবেক্ষকদের টেলিস্কোপের কথায়। আমার জানা মতে একজন সৌখিন আকাশ পর্যবেক্ষক Dr. Erhand সরবোচ্চ ১.৫ মিটার ডায়ামিটার বিশিষ্ট টেলিস্কোপ তার বাড়ির গেরেজে স্থাপন করে আকাশ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। সাধারণত সৌখিন আকাশ পর্যবেক্ষকরা সবোর্চ্চ ১৮ইঞ্চি ডায়ামিটার বিশিষ্ট টেলিস্কোপ ব্যবহার করে থাকে। কাজের সুবিধা এবং সহজে পরিবহণ করার জন্য কারো কারো একাধিক টেলিস্কোপ থাকে।

আমাদের বিজ্ঞান যাদুঘরের টেলিস্কোপটি ১২ইঞ্চি ডায়ামিটারের । মানে ৩০০এম এম এপারচার। ফোকাল লেন্থ ৩০০o এম এম । এর দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা । এটি 1985 সালের হ্যালির ধূমকেতু দেখার জন্য লণ্ডন থেকে কিনে আনা হয়। ১৬ ইঞ্চির একটা ছিল যা অযত্নে নষ্ট হয়ে গেছে। এই টেলিস্কোপ ‍গুলো মূলত maksutov catadioptric বা কম্পাউন্ড টেলিস্কোপ। এখন বিজ্ঞান যাদুঘরের এই ১২ ইঞ্চি টেলিস্কোপ টি দিয়ে আপনি শনির বলয় নিচের ছবির মত দেখবেন। সাথে শনি গ্রহের উপগ্রহ টাইটান কে ও দেখতে পারবেন।

এখন কথা হচ্ছে সাধারণত টেলিস্কোপ বলেতে আমরা নিউট্রনিয়ান বা গ্যালেলিয়ান টেলিস্কোপকে বুঝে থাকি সেগুলো আসলে সরল টেলিস্কোপ। এখন আপনি দেশী বিদেশী নামী দামি যে ব্যান্ডেরটাই ব্যবহার করেন না কেন।

এটি কি ভাবে কাজ করে তা ক্লাস ৯ এর ফিজিক্স বই এ দেয়া আছে। তবে কয়েকটা জিনিস বলতে চাই। গ্যালেলিও সাহেবের লেন্স বেইজড টেলিস্কোপ আর নিউটন সাহেবের মিরর বেইজড টেলিস্কোপ। আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য গ্যালেলিও সাহেবের টেলিস্কোপই ভাল। কারণ আমাদের দেশের আবহাওয়ার আদ্রর্তা লেন্সে ফাঙ্গাস সৃষ্টি করে আর টেলিস্কোপের মিররে যে বিশেষ কোটিং করা হয় তা নষ্ট করে ফেলে । এই মিররের কোটিং সাধারণ মিররের কোটিং এর মত নয়। টেলিস্কোপ লেন্সের ফাঙ্গাস পরিষ্কার করা সম্ভব হলেও, টেলিস্কোপ মিররের বিশেষ কোটিং কে আমাদের এখানে রি কোটিং করা সম্ভব না। বাইরের দেশে যারা সৌখিন কিন্তু প্রফেশনাল জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা আছেন তারা ও বছরে ২-৩ বার তাদের টেলিস্কোপের মিররের কোটিং তুলে নতুন কোটিং করেন। ধূলা বালি এবং আদ্রর্তার কারণে তাদের টেলিস্কোপের মিরের কোটিং ও নষ্ট হয়ে যায়। এমন কি বড় রড় অবজারভেটরির টেলিস্কোপের মিররও ২-৩ মাস পর পর সার্ভিসিং এর জন্য পাঠানো হয়। বিশ্বাস না হলে গুগলে একটু খোজ খবর নেন। আর নিউটন সাহেবের টেলিস্কোপের মিরর কিন্তু আসলে কোন মিরর ছিল না সেটা ছিল একটি গোল কপারের প্লেট।

আর আপনারা ডিসকভারি বা ন্যাট জিও বা ইন্টারনেটে যে শনি গ্রহ এর বলয় , গ্যালাক্সি, নেবুলা এবং অন্যান্য বস্তুর যে রঙ্গিন ছবি গুলো দেখতে পান সে ছবি গুলো মূলত এমন সব অবজারভেটরির বিশাল বিশাল টেলিস্কোপ দিয়ে অথবা মহাকাশে স্থাপিত টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা হয়। মহাকাশে অবস্থিত হাবল টেলিস্কোপ একটি বড় সড় বাসের সমান। এই সব টেলিস্কোপে কিন্তু আপনি চাইলে চোখ লাগিয়ে দেখতে পারবেন না। এই সব টেলিস্কোপে আপনার চোখের বদলে লাগানো থাকে বিশেষ ধরণের সিসিডি ক্যামেরা। আপনাকে দেখতে হবে কম্পিউটারে। তবে এই ক্যামেরা গুলো কিন্তু রঙ্গিন ছবি ধারণ করে না। এই ক্যামেরা গুলো সাদা কালো ছবি ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা পরে ইমেজ প্র্রসেসিং স্টোররে এই বস্তু গুলো থেকে আনা আলো ও গ্যাসের বর্ণালী বিশ্লেষণ করে এই ছবি গুলোতে রং সংযোজন করে রঙ্গিন করে তোলে। যা আপনারা পরে দেখে উল্লোসিত হন। কেবল মাত্র ১৬ ইঞ্চি বা তার উপরের টেলিস্কোপ দিয়ে কালপুরুষ মন্ডল বা অরায়ন নেবুলার মাঝের পারপেল কালার কিছুটা বোঝা যায়। ৮ ইঞ্চি ডায়ামিটার এর টেলিস্কোপ দিয়ে বৃহস্পতি গ্রহের ব্লাক স্পট টি দেখা যায়।

ইদানিং অনেকেই তাদের ৩৫০ এম এম ফোকাল লেন্থ এর টেলিস্কোপের প্যাকেটে শনি গ্রহের কালার ফুল ছবি দিয়ে দিচ্ছেন । তার মানে এটি দিয়ে শনি গ্রহকে কালার ফুলি দেখা যাবে। ভাবতেই অবাক লাগে কি ভাবে সম্ভব? তবে আমরা চটকদার মোড়কে বিশ্বাসি। চমৎকার ফিনিশিং এ বিশ্বাসি। ভেতরের জিনিস যাই থাকুক না কেন। তবে তাদের গ্যাফিক্স ডিজাইনার কে ধন্যবাদ। রাতের আকাশ দেখা মানেই শনির বলয় দেখা আপনারা আমাদের এই জ্ঞান টুকু দিতে পেরেছেন। শনির বলয় ছাড়া মহাকাশে যে আরো অনেক কিছু দেখার আছে তা নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথাই নেই। শনির বলয় না দেখতে পারলে জীবন বৃথা। সাধারণত ৭০-৭৫ এম এম ডায়ামিটারের লেন্স ও ৭০০- ৯০০ এম এম ফেকাল লেন্থ এর টেলিস্কোপে আকাশের অন্ধকারের ঘনত্ব ভেদে (ডিপ স্কাই) শনির বলয়ের ফরমেশন শুরু হয়। এই রেশিয় যত বাড়বে শনির বলয়ের ফরমেশন ও তত বাড়বে।

আমি ২০০৭ সালে থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন জ্যোর্তিবিজ্ঞান সংগঠনের সাথে কাজ করে আসছি। এর সুবাদে দেশী বিদেশী অনেক সৌখিন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী বা সংগঠনের সাথে কাজ করা বা মেশার সুযোগ হয়েছে । তাদের ব্যবহৃত ছোট বড় বিভিন্ন ধরণের টেলিস্কোপ গুলো দেখা ও এর মাধ্যমে আকাশ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। যার ফলে জানতে পেরেছি কোন টেলিস্কোপ দিয়ে কি ধরণের অবজেক্ট দেখা সম্ভব। এর মেনটেইন্স কেমন।

ইউটিউব এ অনেক ফেইক ভিডিওর মধ্যে ছোট খাট একটি টেলিস্কোপ দিয়ে শনির বলয় দেখানো ও একটি ফেইক ভিডিও। যাদের ভিডিও এডিট সম্পর্কে মোটা মোটি ধারণা আছে তারা এই বিষয়টি বুঝবেন। তবে আপনারা এই ভিডিও দেখা থামাবেন না , থামালে তাদের ভিউয়ার কমে যাবে। ইনকাম হবে কি ভাবে। ঠিক একই ভাবে অনেক ফেইক যন্ত্রপাতি বানানোর ও ভিডিও অাছে। এমনকি উইকেপিডিয়া তে ও অনেক ফেইক তথ্য আছে। যা ইচ্ছে করেই দিয়ে রাখা আছে বিভ্রান্ত করার জন্য। বিশ্বাস করা না করা আপনাদের ব্যাপার।

অনেকে প্রশ্ন করেন আপনার টেলিস্কোপের রেইঞ্জ কেমন। ভাই রেইঞ্জ হয় বাইনোকুলারের, বন্দুকের । টেলিস্কোপের রেইঞ্জ ইনফিনিটি। এখন ইনফিনিটি কি তা কি ভাবে বুঝাবো। যারা টেলিস্কোপ এবং দূরবীণ এর পার্থক্য বোঝেন না, টেলিস্কোপের বাংলা দূরবীণ। বাইনো মানে দুই আর মনো মানে এক।

ইনফিনিটি রেঞ্জ নিয়ে একটু বলি। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের চোখের দেখার ক্ষমতা ৬/৬। এখন কারো চোথে যদি এই ৬/৬ এর কম বেশি হয়, চোখের ডাক্তার তাকে সেই মাফিক একটি চশমা সাজেস্ট করেন। এই চশমা দিয়ে তার চোখের সামনে যা পড়বে তা সে ভাল ভাবে দেখতে পারবে। যদি তার চোথের দুই কিলো মিটার দূরে একটি গাছ থাকে তবে সে সেটি দেখতে পাবে। যদি এই গাছটির পেছনে একটি বিশাল দেয়াল থাকে তবে তা ও দেখতে পারবে। এখন যদি গাছ আর উক্ত ব্যক্তির মাঝে একটি গরু বা একটি কুকুর বা একটি বিড়াল চলে আসে সে দেখতে পাবে। কিন্তু ধরুন তার থেকে দুই কিলো দূরে যে গাছ টি আছে তার নীচ দিয়ে যদি একটি ছোট লেংটি ইঁদুর যায় সে কি দেখতে পারবে?

আবার ধরুন আপনি যখন দাড়িয়ে দুই কিলো মিটার দূরের গাছটিকে দেখছেন তখন ঠিক আপনার পায়ের কাছ দিয়ে একটি ছোট পিঁপড়া যাচ্ছে দেখতে পারবেন? কি মনে হয়।

টেলিস্কোপ এর ক্ষেত্রেও এই এক্ই ঘটনা ঘটে। দেশী বিদেশী যেটাই ব্যবহার করেন না কেন। ধরুন পিপড়েটা বুধ গ্রহ, ইঁদুরটা মঙ্গল , গরুটা বৃহস্পতি , কুকুর টা শনি। বড় গাছ বা বিশাল দেয়াল টা কোন গ্যালাক্সি বা নেবুলা।

আবার ধরুন আপনি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাবেন। দুটাই পৃথিবীতে অবস্থিত। আপনাকে ২৪ ষন্টা সময় এবং একটি সাইকেল দেয়া হল যেতে পারবেন?

আবার একটি সাইকেলে কয়জন চড়তে পাড়বেন। ২জন। এখন চিন্তা করুন একটি মোটর সাইকেল, কার , বড় বাস বা ট্রাকে কয় জন চড়তে পারবেন। এবটি সাইকেল আর একটি বড় বাসের দাম কি এক। টেলিস্কোপ কেনা ও এর সাহায্যে দূরবর্তি বস্তু গুলোকে দেখার বিষয় টি ও অনেকটা একই রকম।
টেলিস্কোপ
মনে করুন আপনাকে একটি ঘরে রাখা হয়েছে। ঘরের সব দরজা জ্বানালা বন্ধ। শুধূ একটি ছোট ছিদ্র আছে যা দিয়ে আপনি বাইরে দেখতে পারবেন। এখন ঐ ছিদ্র দিয়ে বাইরে তাকালে আপনি কতটুকু দেখতে পারবেন। এখন যদি আপনাকে জ্বানালাটি খুলে দেয়া হয় কতটুকু দেখতে পারবেন আগের থেকে। এখন ধরুণ নীচ তলার একটি ঘরের অবস্থা এটা। এখন একই ঘটনা যদি ৫ তলা বা ১০ তলার কোন একটি ঘর থেকে করা হয় কতটুকু দেখবেন।

সমতল ভূমি কিংবা পাহাড়ের উপর ছোট বড় টেলিস্কোপ গুলোতে একই রকম ইফেক্ট হয়।

উপরে যেই জিনিস গুলো নিয়ে এতক্ষণ আপনাদের বললাম একজন উদ্ভাবোক বা টেলিস্কোপ বিক্রেতা হিসেবে নয়। যারা আসলেই মহাকাশের অপার সৌন্দর্য কে কাছে থেকে উপভোগ করতে চান তাদের কাজে লাগবে। উপরের কোন তথ্যই আমি কোন বই থেকে নেইনি। আকাশ দেখেতে দেখতে, কাজ করতে করতে এবং কিছু সৌখিস জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এবং দেশী বিদেশী কিছু সংস্থার সাথে কাজ করতে গিয়ে জানতে পেরেছি।

জ্যোর্তিবিজ্ঞান বা মহাকাশ বিজ্ঞান একটি সবোজনিন বিজ্ঞান। আপনি ছাত্র হন , ডাক্তার হন , উকিল হন, সাংবাদিক , গায়োক হন যে পেশারই হোন না কেন আপনি জ্যোর্তিবিজ্ঞান বা মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চা করতে পারবেন। কারণ আপনি যেখানেই যাবেন মাথার উপর একটি উন্মক্ত আকাশ পাবেন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে । টেলিস্কোপ থাকুক আর না থাকুক আকাশ দেখতে পারবেন। ভারচুয়াল জগৎ ছেড়ে একটু প্রকৃতি দেথুন। আগের দিনের রাজা বাদশারা বা সম্ভ্রান্ত গুরুত্ব পূর্ণ ব্যক্তিরা অবসর সময়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করতেন। ইবনে সিনা থেকে আল বেরুণী , চিন , মিশর , আরব, ইউরোপ এবং প্রাচীন ভারতেও জ্যোর্তিবিজ্ঞান চর্চা হত।
টেলিস্কোপ
বলতে পারেন আকাশ দেখে আপনার কি লাভ ? যিনি ইউরেনাস গ্রহ আবিষ্কার করেন তিনি ছিলের একজন সংগিতঙ্গ। টম ক্লাইম্বা একজন কৃষক ছিলেন যিনি প্লুটো গ্রহ আবিষ্কার করেন। হ্যালীর ধূমকেতু যিনি আবিষ্কার করেন বা হেল ব্ব ধুমকেতু যিনি আবিষ্কার করেন তারা ও সৌখিন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। এই কয়েক বছর আগে অট্রেলিয়ার ১২ বছরের এক মেয়ের নামে একটি দূরবর্তী নক্ষত্র কে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা পৃথিবী সাদৃশ্য একটি গ্রহের নাম ঐ মেয়েটির সনামে নাম করণ করা হয়েছে। কারণ ঐ গ্রহটি সে থুজে বের করেছ। আরো এমন অনেক উদাহরণ আছে। যা নেটে ঘাটাঘাটি করলেই পাওয়া যায়।

একটি টেলিস্কোপ সংগ্রহ এবং ক্রয় করতে ব্যার্থ হয়ে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পযর্স্ত নিরলস ও নিরবিচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফলে মোটা মোটি মানের একটি টেলিস্কোপ তৈরী করতে সক্ষম হই। এবং এই টেলিস্কোপটিকে ডিজাইন ও মানের দিক থেকে আরো উন্নত ও আকর্ষণীয় করার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আমার মতো আর্থিক অবস্থা তেমন একটা সচ্ছল নয় কিন্তু মহাকাশের প্রতি অদম্য আকর্ষণ আছে তাদের জন্য ই আমার এই স্বল্প মূল্যের টেলিস্কোপ। টেলিস্কোপ মানে শুধু লেন্স আর টিউব নয়। এর মানে আরো অনেক কিছু।

আমি আমার নিজের তৈরী টেলিস্কোপ নিয়ে ঘুরে বেড়াই সাধারণ মানুষের মাঝে। এর জন্য কোন বাড়তি অর্থ তাদের খরচ করতে হয় না। সবার জন্যই আমার টেলিস্কোপ দিয়ে রাতের আকাশ দেখা উন্মক্ত। যা আমার প্রফাইল দেখলেই বুঝতে পারবেন। মানুষ আকাশের রহস্যকে জানুক, বিজ্ঞান মনুষ্ক হোক এটাই অমার কাম্য । এসি রুমে আরামদায়োক চেয়ারে বসে চা নাস্তা খেয়ে সিদ্ধান্তর পর সিদ্ধান্ত নেয়াতে আমি বিশ্বাসি নই। হয়তো এর জন্যই আমি উপর মহলের কোন সহযোগীতা পাইনি। যখন প্রত্যন্ত কোন গ্রামের কোন একটি স্কুল পড়ুয়া বাচ্চা আমার বানানো টেলিস্কোপ টি ধরে বা এর মাধ্যমে চাঁদের ক্ষত গুলোকে দেখে আনন্দিত হয় তাতেই আমার আনন্দ। ইচ্ছে হয় যদি তাদের হাতে একটি টেলিস্কোপ তুলে দিয়ে আসতে পারতাম । হয়তো ভবিষ্যতে তা সম্ভব হবে। আমাদের দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে বাস্তবায়ন করা যায়না। সবাই পারে না। তাই নিজের স্বপ্নকে পুরোপুরি বিষোর্জন না দিয়ে , সেই স্বপ্নকে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। এর মাঝেই আমার কাজের সফলতা।

আপনি যে কোন একটি প্রডাক্ট কিনলে তাতে সমস্যা থাকতেই পারে। কারণ প্রডাক্টটি মানুষ বা মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত যন্ত্রর সাহায্যে উৎপাদিত হয়। আমার টেলিস্কোপ ও সমস্যা খাকেতে পারে। এর জন্য আমি দিচ্ছি ১০ বছরের বিক্রয় উত্তর সেবা।আমার কাছ থেকে একটি টেলিস্কোপ নিলেন কিন্তু ঠিক মত কাজ করছেনা । অনায়াসে আপনি আমার কাছে খেকে এটি ঠিক করিয়ে নিতে পারবেন কোন বাড়তি খরচ ছাড়াই।তবে কিছু শর্ত অবশ্যই থাকবে।

আপনি যথন বাইরে থেকে একটি টেলিস্কোপ কিনলেন (নতুন অথবা পুরনো), কেনার পর যখন দেখবেন তা দিয়ে আপনার কাঙ্খিত বস্তু দেখতে পারছেন না বা টেলিস্কোপে কোন একটি সমস্যা আছে, তখন কি করবেন । পারবেন তখন ঐ টেলিস্কোপটিকে পরিবতর্ন করে নিতে অথবা পরিবর্ধন করতে।

কিন্তু আমার কাছ থেকে টেলিস্কোপ নিলে আপনারা এই সুবিধাটি পাবেন। পারবেন যে কোন সময় আপনার ইচ্ছে মত কাস্টমাইজ একটি টেলিস্কোপ তৈরী করে নিতে। এখন গ্যালেলিয়ান ও নিউট্রনিয়ান ২ ধরণের টেলিস্কোপ ই তৈরী করি। এ ছাড়া ও আরো অন্যান্য জিনিস তৈরী করি এবং তৈরী করার চেষ্টা করছি।

বলতে গেলে শূণ্য হাতেই আমি আমার টেলিস্কোপ তৈরীর কাজ শুরু করি। আমি বলবো না আমার টেলিস্কোপ শত ভাগ পারফেক্ট। আমি এখনো এটি কে পারফেক্ট করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি কোন টেলিস্কোপ কিনে সেটা দেখে আমার এই টেলিস্কোপ তৈরী করিনি। প্রথম গাড়িটি বা প্রথম বিমানটি কিন্তু সুপার কার বা সুপার সনিক ছিলনা। কালের বিবর্তনে এটি ধীরে ধীরে সুপার কার সুপার সনিক রুপ ধারণ করেছে। আমার টেলিস্কোপ ও ৫ বছর থেকে ৬ বছরে পা দিল। দেখা যাক আমি এটিকে আর কত দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

শাফায়াত আজাদ
সৌখিন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক
আজাদ টেকনোলজি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে